বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০২:৩৭
শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত ইরানের জনগণ শান্ত হবে না

ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও তাবরিজ শহরের জুমার নামাজের ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুতাহারি-আসল বলেছেন, ইরানের জনগণ শুধু বৈশ্বিক আধিপত্যবাদীদের কাছ থেকে নিজেদের অধিকার আদায় করতে চায় না, বরং শহীদদের রক্তের প্রতিশোধও দাবি করছে। “এই পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত তারা শান্ত হবে না,” বলেন তিনি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আফতাবে শার্কি’-তে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মানুষের আত্মগঠন ও উন্নয়নের পথে অধ্যবসায় ও দৃঢ়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা, তা দূর করা এবং সমস্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই মানুষের বিকাশ ও পরিপূর্ণতা অর্জিত হয়।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মুতাহারি-আসল বলেন, দৃঢ়তার পথে মানুষের সবচেয়ে বড় বাধাগুলো হলো অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা। মানুষ যদি ভেতর থেকে দুর্বল না হয় এবং আত্মসংযম ও প্রতিরোধের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, তাহলে বাইরের প্রতিবন্ধকতাও মোকাবিলা করা সহজ হয়। কিন্তু যারা আত্মগঠন ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকে যথেষ্ট শক্তিশালী করতে পারেনি, তারা বাইরের চাপের বিরুদ্ধেও স্থির থাকতে পারে না।

কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ একই সঙ্গে বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক সত্তা। তার মধ্যে ভালো ও মন্দের প্রতি আকর্ষণ এবং নানা ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। অর্থ-সম্পদ, সন্তান, ভোগ-বিলাস ও পার্থিব আকাঙ্ক্ষার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে পরকাল ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং শত্রুর মোকাবিলায় দুর্বল করে ফেলে।

তিনি বলেন, বাইরের শত্রুর মোকাবিলার আগে মানুষকে নিজের প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামে জাকাত, খুমস, দান, সৎকর্ম ও সুদমুক্ত ঋণের মতো আর্থিক বিধানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সম্পদের প্রতি মানুষের অতিরিক্ত আসক্তি কমানো এবং পার্থিব মোহ থেকে তাকে রক্ষা করা।

এই আলেম আরও বলেন, “আপনি যদি শত্রুর কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করতে চান, তাহলে প্রথমে নিজের নফসের কাঁটাতার অতিক্রম করতে হবে।” তার মতে, মানুষের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও লোভ থেকেই অন্যায়ের সুযোগ তৈরি হয়। সমাজে অন্যায় প্রতিষ্ঠিত হলে কেউ তার অধিকার পায় না এবং ন্যায়বিচারও প্রতিষ্ঠিত হয় না।

বাইরের প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামের শত্রুরা এ ধরনের বাধার মধ্যে অন্যতম এবং তাদের মোকাবিলার উপায় হলো দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করা। “আমরা যদি শত্রুর সামনে দাঁড়াই, সে পিছু হটবে না; আর আমরা যদি পিছু হটি, সে আরও এগিয়ে আসবে।”

ইমাম খোমেনি ও শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী তাদের বক্তব্যে বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্বল অবস্থান গ্রহণ করলে আধিপত্যবাদীরা কোনো ছাড় দেবে না; বরং তারা মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, বৈশ্বিক আধিপত্যবাদী শক্তি ও ইসরায়েলের সামনে ইরান যখন সামান্য দুর্বলতা দেখিয়েছে, তখন তারা কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত হয়নি। বরং ইরান প্রতিরোধ ও দৃঢ় অবস্থান নিলে তবেই তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মুতাহারি-আসল বলেন, বিশেষ করে শহীদ নেতা, মিনাবের শিক্ষার্থী এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর পর ইরানের জনগণ কোনোভাবেই পিছু হটতে প্রস্তুত নয়। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি শহীদদের রক্তের প্রতিশোধও দাবি করছে এবং সেই প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত শান্ত হবে না।

তিনি বলেন, “আজ আপনারা দেখছেন, প্রায় ২০০ রাত ধরে জনগণ দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে মাঠে ও রাস্তায় উপস্থিত রয়েছে।” তার মতে, এর কারণ হলো জনগণ নিজেদের অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী করেছে এবং যে পার্থিব আকাঙ্ক্ষা ও দুশ্চিন্তা আগে তাদের দৃঢ়তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত, তা অতিক্রম করেছে।

তিনি বলেন, ইরানের জনগণ এখন নিজেদের দেশকে জীবনের মতোই ভালোবাসে, নিজেদের ধর্ম, আদর্শ ও ব্যবস্থা নিয়ে গর্বিত এবং বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের সামনে এক পা-ও পিছু হটতে প্রস্তুত নয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha